আমার নবী - রামাদান ১৪৪৫

by Rain Drops Media

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে উপস্থিত হাজারো মানুষকে জিজ্ঞেস করেন, "আমি কি দায়িত্ব সম্পন্ন করেছি?" তারা উত্তর দেয়, "হ্যাঁ, করেছেন।" তারপর তিনি বলেন, "হে আল্লাহ্‌, আপনি সাক্ষী থাকুন।"

সম্মানিত শ্রোতা, আপনার কী মনে হয়? নবীজি কি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন?

এখনি উত্তর দেবেন না, একটু অপেক্ষা করুন। আরেকটি হাদিস শুনুন।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডোরাকাটা চাদরের একপাশ মাথায় পেঁচিয়ে বের হলেন, মসজিদের মিম্বরে উঠলেন। এরপর তাঁর আর মিম্বরে ওঠা হয়নি। তিনি আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠের পর বললেন, "আমি আনসার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমাদের ওসীয়ত করছি। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা পালন করেছে, কিন্তু তাদের পাওনা বাকি রয়ে গেছে।"

আবার আগের প্রশ্নে ফিরে আসা যাক। রাসূলুল্লাহ (সা) কি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন? আশা করছি সাহাবিদের মতোই আপনারাও সমস্বরে উত্তর দেবেন, "হ্যাঁ, করেছেন।" নবীজি আল্লাহ্‌ তা'আলাকে এর উপর সাক্ষী করেছেন। নিশ্চয়ই আমরাও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবীজি (সা) তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব কতই না সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছেন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কিন্তু যেভাবে নবীজি আনসার সাহাবীদের ব্যাপারে বলে গেছেন যে, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা পালন করেছে, কিন্তু তাদের পাওনা বাকি রয়ে গেছে, ঠিক তেমনি আমাদের নবীজি তাঁর দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু এই উম্মতের কাছে, আমার আপনার কাছে নবীজির পাওনা বাকি রয়ে গেছে। উম্মত হিসাবে আমরা নবীজির কাছে চিরঋণী। এই ঋণের পাওনা পরিশোধ করার সাধ্য আমাদের নেই। তা অনুধাবন করতে পেরেই সাহাবিরা বারবার বলতেন, ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার আব্বা-আম্মা আপনার জন্য কুরবান হোক ইয়া রাসূলুল্লাহ! বরং এর কৃতজ্ঞতা আদায়ের নজরানা হিসাবে আমাদের জন্য দুটি করণীয় রয়েছে যা সাহাবারা করে গেছেন। এক, নবীজির আনুগত্য করা আর দুই, তাঁকে ভালোবাসা।

রেইনড্রপস এর নতুন রামাদান অডিও সিরিজ এ আপনাদের স্বাগতম। আমরা এর আগে আখিরাত, কুরআন, সাহাবাদের জীবন নিয়ে আলোচনা করেছি। এই সব কিছুকে একসুতোয় সংযুক্ত করেছেন আমাদের নবীজী মুহাম্মাদ (সা)। আমরা সীরাহ নিয়েও আলোচনা করেছি। কিন্তু সীরাহ নবীজীবনের ঘটনাবলিতে যতটা ফোকাস করে ততোটা ব্যক্তি নবীজির উপর করে না। মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে তারই আনুগত্য করে যাকে সে ভালোবাসে। আর একজন ব্যক্তিকে ভালোবাসার জন্য তার পরিচয় জানা প্রয়োজন। তার জীবনের ঘটনাবলি যেমন আমাদের জানা প্রয়োজন তেমনি তার ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিকও জানা প্রয়োজন। তাই এই রামাদানে আমাদের প্রয়াস ব্যক্তি নবীজিকে আরেকটু কাছে থেকে জানা। তিনি দেখতে কেমন ছিলেন? তিনি কী খেতে পছন্দ করতেন? তাঁর পরিবারে কে কে ছিল? তিনি কীভাবে জীবনযাপন করতেন? তিনি কীভাবে কথা বলতেন, কেমন করে হাসতেন? পিতা হিসাবে কেমন ছিলেন? স্বামী হিসাবে তাঁর স্ত্রীদের সাথে কেমন আচরণ করতেন? তাঁর আচরণ-আখলাক-মু'আমালাত কেমন ছিল?

আরেকটু জুম-ইন করে, আরেকটু নিবিড়ভাবে ব্যক্তি নবীজিকে জানার আয়োজন 'আমার নবী' সিরিজে আপনাদের স্বাগতম। এই রামাদান হয়ে উঠুক আমাদের নবীকে আমার নবী করে নেওয়ার পথে আরেক ধাপ।

read more

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে উপস্থিত হাজারো মানুষকে জিজ্ঞেস করেন, "আমি কি দায়িত্ব সম্পন্ন করেছি?" তারা উত্তর দেয়, "হ্যাঁ, করেছেন।" তারপর তিনি বলেন, "হে আল্লাহ্‌, আপনি সাক্ষী থাকুন।"

সম্মানিত শ্রোতা, আপনার কী মনে হয়? নবীজি কি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন?

এখনি উত্তর দেবেন না, একটু অপেক্ষা করুন। আরেকটি হাদিস শুনুন।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডোরাকাটা চাদরের একপাশ মাথায় পেঁচিয়ে বের হলেন, মসজিদের মিম্বরে উঠলেন। এরপর তাঁর আর মিম্বরে ওঠা হয়নি। তিনি আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠের পর বললেন, "আমি আনসার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমাদের ওসীয়ত করছি। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা পালন করেছে, কিন্তু তাদের পাওনা বাকি রয়ে গেছে।"

আবার আগের প্রশ্নে ফিরে আসা যাক। রাসূলুল্লাহ (সা) কি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন? আশা করছি সাহাবিদের মতোই আপনারাও সমস্বরে উত্তর দেবেন, "হ্যাঁ, করেছেন।" নবীজি আল্লাহ্‌ তা'আলাকে এর উপর সাক্ষী করেছেন। নিশ্চয়ই আমরাও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবীজি (সা) তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব কতই না সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছেন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কিন্তু যেভাবে নবীজি আনসার সাহাবীদের ব্যাপারে বলে গেছেন যে, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা পালন করেছে, কিন্তু তাদের পাওনা বাকি রয়ে গেছে, ঠিক তেমনি আমাদের নবীজি তাঁর দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু এই উম্মতের কাছে, আমার আপনার কাছে নবীজির পাওনা বাকি রয়ে গেছে। উম্মত হিসাবে আমরা নবীজির কাছে চিরঋণী। এই ঋণের পাওনা পরিশোধ করার সাধ্য আমাদের নেই। তা অনুধাবন করতে পেরেই সাহাবিরা বারবার বলতেন, ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার আব্বা-আম্মা আপনার জন্য কুরবান হোক ইয়া রাসূলুল্লাহ! বরং এর কৃতজ্ঞতা আদায়ের নজরানা হিসাবে আমাদের জন্য দুটি করণীয় রয়েছে যা সাহাবারা করে গেছেন। এক, নবীজির আনুগত্য করা আর দুই, তাঁকে ভালোবাসা।

রেইনড্রপস এর নতুন রামাদান অডিও সিরিজ এ আপনাদের স্বাগতম। আমরা এর আগে আখিরাত, কুরআন, সাহাবাদের জীবন নিয়ে আলোচনা করেছি। এই সব কিছুকে একসুতোয় সংযুক্ত করেছেন আমাদের নবীজী মুহাম্মাদ (সা)। আমরা সীরাহ নিয়েও আলোচনা করেছি। কিন্তু সীরাহ নবীজীবনের ঘটনাবলিতে যতটা ফোকাস করে ততোটা ব্যক্তি নবীজির উপর করে না। মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে তারই আনুগত্য করে যাকে সে ভালোবাসে। আর একজন ব্যক্তিকে ভালোবাসার জন্য তার পরিচয় জানা প্রয়োজন। তার জীবনের ঘটনাবলি যেমন আমাদের জানা প্রয়োজন তেমনি তার ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিকও জানা প্রয়োজন। তাই এই রামাদানে আমাদের প্রয়াস ব্যক্তি নবীজিকে আরেকটু কাছে থেকে জানা। তিনি দেখতে কেমন ছিলেন? তিনি কী খেতে পছন্দ করতেন? তাঁর পরিবারে কে কে ছিল? তিনি কীভাবে জীবনযাপন করতেন? তিনি কীভাবে কথা বলতেন, কেমন করে হাসতেন? পিতা হিসাবে কেমন ছিলেন? স্বামী হিসাবে তাঁর স্ত্রীদের সাথে কেমন আচরণ করতেন? তাঁর আচরণ-আখলাক-মু'আমালাত কেমন ছিল?

আরেকটু জুম-ইন করে, আরেকটু নিবিড়ভাবে ব্যক্তি নবীজিকে জানার আয়োজন 'আমার নবী' সিরিজে আপনাদের স্বাগতম। এই রামাদান হয়ে উঠুক আমাদের নবীকে আমার নবী করে নেওয়ার পথে আরেক ধাপ।